সাধারণ সম্পাদকের বাণী

সাংবাদিকদের আধিকার আদায়, বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সংবাদকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, সর্বোপরি দেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তি রচনার মহান লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। স্বাধীনতাপূর্ব East Pakistan Journalist Union-EPUJ, স্বাধীনতাত্তোর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নামে যাত্রা শুরুর পর সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের পাশাপাশি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচার পতনে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। আজো সেই ধারা অব্যাহত।

কিন্তু কাঙ্খিত সফলতার নাগাল মিলছে না। কারণ সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদের একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। একদিকে সুবিধাবঞ্চিত বেকার সাংবাদিকদের ভিড়, অপর দিকে সবধরনের সুবিধাপ্রাপ্তদের বর্ণাঢ্য জীবন। এ কারণেই গণমাধ্যম জগতে চলছে একধরনের অস্থিরতা। কথায় কথায় চাকুরিচ্যুতি, গোল্ডেন হ্যাণ্ডশেকের নামে প্রতারণা, গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়ার পরে এক পক্ষ রাস্তায় নামলে অপর পক্ষ নির্বিকার… এমন একটি বৈরী সময় পার করছে বাংলাদেশের গণমাধ্যম।

২০১৯ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস নামের আন্তর্জাতিক সংগঠন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যে বৈশ্বিক প্রতিবেদন ছেপেছে, সেখানেও ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চার ধাপ নেমে এখন ১৫০তম। ‘আর্টিকেল ১৯’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালে দেশে ৩৩৫টি ঘটনা ঘটেছে যা বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই ঘটেছে তৃণমূল পর্যায়ে।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার এমন দুর্দিনে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমাদেরকে আমাদের দায়িত্ব সাহসিকতার সাথে পালন করতে হবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যম আজ থেকে চারশ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল আমাদের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। দেশের প্রগতি, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবসময় সোচ্চার ও সক্রিয় থাকতে হবে, সকল সাংবাদিক সহকর্মীদের প্রতি আমি এই আহবান জানাই।

মো: শহিদুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক